এ বছরই শুরু হচ্ছে তৃতীয় সাবমেরিনে যুক্ত হওয়ার কাজ
তৃতীয় ক্যাবল সি-মি-উই-সিক্সে যুক্ত হতে চলতি বছরেই কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কাজ শেষ হবে ২০২৪ সাল নাগাদ আর এই কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে আরো ১২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ পাবে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত যুক্ত হবে মোট ১৮টি দেশের সঙ্গে।
এই কাজ বাস্তবায়ন করছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কনসোর্টিয়াম সদস্য এবং চূড়ান্ত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।
সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, একই বৈঠকে কনসোর্টিয়ামের নির্বাচিত ঠিকাদারের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি (Supply Contract) স্বাক্ষরের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়।
আগামী রোববারে এই চুক্তিটা হবে বলে জানিয়েছেন বিএসসিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।
তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার যোগান দেবে। আর বাকি ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার যোগান দেবে সরকার।
এদিকে বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে দেশের ইন্টারনেট তথা আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার গত কয়েক বছরে ব্যাপক হারে বেড়েছে। ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন সেবার ব্যাপক প্রসারের কারণে ব্যান্ডউইডথের এই ঊর্ধ্বমুখী ব্যবহারের ধারা পরবর্তী বছরগুলোর জন্য অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
এছাড়াও চলতি ২০২১ সালের মধ্যেই দেশে চালু হতে যাচ্ছে ফাইভজি সেবা। সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে সরকার। ফাইভজি সেবা চালু হলে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়বে। ব্যান্ডউইডথের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা বর্তমানে চালুকৃত দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে পূরণ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে সরকার দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের জন্য এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার ফলে আমদানিকারকের দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন ব্যান্ডউইথ রপ্তানিকারকের দেশে পরিণত হবে বলেও স্পষ্ট দেখতে পারছেন মন্ত্রী।
১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে বিনা খরচে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তখনকার সরকার বুঝতেই পারেনি এর গুরুত্ব কতখানি। দেশের ‘তথ্য পাচার’ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরপর দুবার তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ মিস করলেও ২০০৬ সালে সেই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হয়নি। ওই বছরের ২১ মে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছিল সি-মি-উই-ফোর সাবমেরিন ক্যাবলে। এখন তৃতীয় ক্যাবলের সঙ্গে চলছে চতুর্থ সাবমেরিনে যুক্ত হওয়ার আয়োজন। তাই সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে অন্যতম সেরা অর্জন বলে অভিহিত করেছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।